তাকদীর, অথরিটি, স্বাধীনতা ও খোদার অস্তিত্বগত অনন্যতা

তাকদীর হলো এক ধরনের অথরিটির ব্যাপার। এখানে আমার আলোচনার প্রসঙ্গটি হলো, পূর্বনির্ধারণ বা প্রিডিটারমিনেশন না হয়ে যদি পূর্ণ স্বাধীনতা হয়, তাহলে কেমন হবে? আসল কথা হলো পূর্ণ স্বাধীনতা সম্ভব নয়। বস্তুগতভাবে, বাস্তবে, যুক্তির নিরিখে এবং প্রকৃতিগতভাবে, যেভাবেই বলি না কেন, কোনো না কোনো ধরনের পূর্বনির্ধারণ বা অথরিটির অধীনতা ছাড়া স্বাধীনতার ধারণাটি অবাস্তব ও অসম্ভব। সব ক্ষেত্রে সবকিছুতেই স্বাধীনতার ব্যাপারটি যদি এমন শর্তনির্ভর বা কন্ডিশনড হয়ে থাকে, তাহলে ধর্ম, বিশেষ করে তাওহীদের ক্ষেত্রে কেন মানুষের পূর্ণ স্বাধীনতা না থাকাটাকে একটা সমস্যা হিসাবে দেখা হবে?

আমরা বা জগতের যে কোনো কিছু, কোনো না কোনোভাবে প্রিডিফাইনড, কোনো না কোনোভাবে কনফাইনড। আমি এখন এই যে কথাটি বলছি, তা বলতে গিয়ে আমি আমার ভোকাল কর্ড ব্যবহার করছি। আমার ফিজিক্যাল ক্যাপাসিটিকে ব্যবহার করছি। এই রুমের তাপমাত্রা ও আবহাওয়াগত নানা শর্তসহ বহুবিধ পূর্বনির্ধারিত উপায় ও উপাদান সঠিক মাত্রায় বজায় ও সক্রিয় থাকা সাপেক্ষে আমি এই কথাগুলো বলতে পারছি। সুতরাং, এই দৃষ্টিতে এই কথাটা বলতে পারাটাও কিন্তু একটা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া দ্বারা পূর্বনির্ধারিত।

এর মানে এই নয় যে, আমি এই যে কথা বলছি, এটি বলার জন্য প্রকৃতি আমাকে বাধ্য করছে। বাস্তবতা হচ্ছে, আমি এই কথাগুলো বলছি স্বেচ্ছায় ও স্বাধীনভাবে।

এখন একজন বস্তুবাদী, কার্যবাদী (ফাংশনালিস্ট) অথবা আচরণবাদী ব্যক্তি বলতে পারে, ‘এক অর্থে তুমি এই মুহূর্তে এই যে কথাটি বলছো, সেটি তোমার ব্রেনের মধ্যে এক ধরনের বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয়-রাসায়নিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার কারণে সম্ভবপর হচ্ছে। তোমার মস্তিষ্কে এক ধরনের হরমোন কাজ করছে, যার কারণে তুমি এখন কথা বলতে পারছো।’

আমরা কেউই অস্বীকার করতে পারি না যে, আমরা যখনই কোনো কাজ করি, কথাবার্তা হোক বা অন্য কোনো কাজ হোক, তখন আমাদের হরমোনজনিত নানা ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়াগুলো সুনির্দিষ্টভাবে সক্রিয় থাকে। যার কারণে, আমরা কোনো কর্ম সম্পাদন করতে পারি। শারীরিক প্রক্রিয়াগুলো যথাযথভাবে কাজ না করলে আমরা মুহূতেই হয়ে পড়বো অচল ও অকার্যকর। এই দৃষ্টিতে, আমার ব্রেইন থেকে আমার ভোকাল কর্ড নির্দিষ্টভাবে নড়াচড়া করার কন্টিনিউয়াস কমান্ড আসার কারণেই আমার এই মুহূর্তে কথা বলা সম্ভব হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হলো, আমার এই কথাগুলো আমার ব্রেইন বলছে, নাকি ব্রেইন আর ভোকাল কর্ডের সহায়তায় আমি বলছি? আমার ভোকাল কর্ড যদি আমার ব্রেনের কমান্ডে চলে, তাহলে আমার ব্রেনের মধ্যে এই কমান্ডটিই কেন হচ্ছে? অন্যরকম না হয়ে এভাবেই কেন হচ্ছে?

এর উত্তর হলো, আমার সিস্টেমটা আমাকে ফ্যাসিলিটেইটেড করছে। আমার শরীরকে দিয়ে আমি কাজটা আদায় করে নিচ্ছি। এই ফ্যাসিলিটিটা আমাদের জন্য জরুরি বা অপরিহার্য। কিন্তু তারমানে এই নয় যে ওই ফ্যাসিলিটির কারণেই আমি এটি বলছি। বস্তুবাদীদের ভুলটি হলো ঠিক এই জায়গায়। কাজের অন্যতম একটা অপরিহার্য শর্তকে তারা সংশ্লিষ্ট কাজটির মূল শর্ত বা কারণ বলে মনে করে।

কথা হলো, প্রায়র ফিক্সড হওয়া তথা একটি লিমিটের বাইরে যেতে না পারা, এতে কিন্তু ফ্রিডম ক্ষুন্ন হয় না। খোদা জগতের নিয়মগুলো একভাবে সেট করেছেন, যা আমরা উল্টাতে পারি না, এটুকু পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু এর পরের যে আলোচনা বেশ খানিকটা গভীরতায় চলে যায়, সেটা হলো–

‘আমি যে ইচ্ছা করছি’– এটিকে যদি আমি অ-বস্তুগত একটা বিষয় বলে মনে করি, তাহলে বলতে হয়, আমার এই বিশেষ ইচ্ছাটাও কিন্তু গডের কাছ থেকেই এসেছে। এবং তা নির্ধারিত। তাহলে আমি কেন পুরস্কার বা শাস্তির মুখোমুখি হবো? কেন আমাকে ভালো, মন্দ বা সবকিছু বা কোনো কিছুর জন্য দায়ী করা হবে? যেহেতু খোদা নিজেই সবকিছু পূর্বনির্ধারণ করে দিয়েছেন, যার অন্যথা করা আমি বা যে কারো জন্য অসম্ভব?

তাকদীর সংক্রান্ত মৌলিক এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য আমাদেরকে কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয় প্রথমে খতিয়ে দেখতে হবে। ‘খোদা নির্ধারণ করে দিয়েছেন’ এই কথাটা ব্যাকরণগতভাবে সঠিক হলেও খোদার দিক থেকে এটি অগ্রহণযোগ্য। খোদার দিক থেকে ‘খোদা তায়ালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন’ কথাটাই ভুল।

কেননা, খোদা হলেন এমন এক সত্তা, যার ক্ষেত্রে তিনি করেছেন, করছেন বা করবেন, এ ধরনের সময়নির্ভর ক্রিয়াপদগুলো অকার্যকর। তিনি কালোত্তীর্ণ এক মহান সত্তা। তাঁর দিক থেকে বা তার জন্য অতীতের বা ভবিষ্যতের কিছু থাকার সম্ভাবনা নাই। এ কারণে সবকিছুই তার জন্য সদা-বর্তমান। যেহেতু তিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান। সোজা কথায়, যেহেতু তিনি খোদা বা এক অনন্য পরম সত্তা।

‘ঈশ্বর আগেই এটি সৃষ্টি করেছেন বা নির্ধারণ করে রেখেছেন’, আমাদের বুঝার জন্য অতীতকালসূচক এ ধরনের ব্যাকরণগত বাক্য আমরা ব্যবহার করে থাকি। আমাদের বুঝার জন্যই তিনি এ ধরনের কালসূচক ক্রিয়াপদ নিজের জন্য ব্যবহার করেছেন। খোদা তায়ালা যদি তাঁর মতো করে আমাদের সাথে ইন্টারেক্ট করতেন, তাহলে তো তা আমাদের বোধগম্য হতো না। না হওয়াটাই স্বাভাবিক।

পক্ষান্তরে, পরম সত্তা যখন ব্যক্তিসত্তার সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ বা কমিউনিকেশন করবেন, তখন তিনি ওই বিশেষ বা পার্টিকুলারের মতো করেই নিজেকে হাজির করবেন। ওই বিশেষ বা পার্টিকুলার সত্তা (যেমন: মানুষ) যেভাবে কোনো কিছু বুঝতে পারে, সেভাবে সে ভাষাতেই তিনি তাদের সাথে কথা বলবেন, এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের যুক্তি-বুদ্ধি তো আমাদেরকে এই কথাটাই বলে।

যা হোক, জগত পরিচালনার সামগ্রিক নিয়ম-কানুনগুলো ঈশ্বর কর্তৃক আগে থেকে ফিক্সড করা। সামগ্রিক নিয়মকানুনের পাশাপাশি বিশেষ বিশেষ তথা পার্টিকুলার ঘটনাবলীও ঈশ্বর কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত। আমার পক্ষে বা কারো পক্ষে সেটা উল্টানো বা এর বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের দিক থেকে এই ‘সমস্যাটিকে’ এখন আমরা একটু বিপরীত দিক থেকে দেখার চেষ্টা করি। আগেভাগেই সব না জানলে ও সবকিছু নির্ধারণ করতে না পারলে গড তো আদতে গডই হতে পারেন না। সো, ইট’স ভেরি ক্লিয়ারলি লজিক্যাল যে গডের দিক থেকে সবকিছু ফিক্সড।

কিন্তু আমাদের দিক থেকে কি সবকিছু পূর্বনির্ধারিত বা ফিক্সড? এ ব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতা আমাদেরকে কী বলে?

এই পর্যায়ে এসে মুক্তচিন্তার দাবিদার হিসেবে কেউ বলতে পারে, ‘তারমানে বলা যায়, আসলে চিন্তার স্বাধীনতা বলে কিছু নাই। আছে চিন্তার স্বাধীনতা থাকার ভুল ধারণা বা অধ্যাস। ইংরেজীতে যাকে ইলিউশন বলা হয়।’

চিন্তা ও কর্মগত স্বাধীনতার ব্যাপারে আমার বক্তব্য হলো– না, এটি অমূলক ধারণা বা ইলিউশন নয়। বরং এটি বাস্তব ও ব্যবহারিক সত্য। আমাদের দিক থেকে এটাই বাস্তবতা। এই যে আমি এই কথাটা বলছি, এটা আমি না বললেও পারতাম, এটা এম্প্যারিক্যাল ফ্যাক্ট। ‘আমি স্বাধীন নই’– এই কথাটি তো অন্ততপক্ষে আমি স্বাধীনভাবেই বলছি। কীভাবে এটা অস্বীকার করি? ‘মুক্তচিন্তা বলে কোনো কিছু নাই’– এই চিন্তাটি তো অন্ততপক্ষে আমি মুক্তভাবে করতে পারছি। ‘ঈশ্বর বলে কোনো কিছু নাই’– এমনটি ভাবার বা এ কথাটি বলার কিংবা এ মোতাবেক জীবন চলার স্বাধীনতা তো ঈশ্বরই দিয়েছেন।

কারো নিরীশ্বরবাদী হওয়াটা আল্লাহর হুকুমেই হয়ে থাকে, এমনটি যদি কেউ বিশ্বাস করে, তার তো প্রথমেই আল্লাহর অস্তিত্বকে স্বীকার করে নিয়ে আল্লাহর উপর ঈমান আনা উচিত। ‘আমাদের চিন্তা ও কর্মের স্বাধীনতা নাই’– এই কথাটা লজিক্যালি কন্ট্রাডিক্টরি এবং সেল্ফ-রিফিউটিং।

কেউ আপত্তি করে বলতে পারে, “না, গডের দিক থেকে তো এটা ফিক্সড। তাহলে?”

ওয়েল, সেই জন্যই এই আলোচনায় এই কথাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে একচুয়েলি কোনো কিছু খোদা কর্তৃক নির্ধারণ করার ব্যাপারটাও জগতসাপেক্ষ ব্যাপার। কেউ যদি বলে, আমি এটা ফিক্স করেছি। তারমানে, এটি তৎপূর্বে আনফিক্সড ছিলো। জাগতিক কোনো কিছুর জন্য এটি সত্য হলেও খোদা তায়ালার মতো কালিক ধারার শর্ত হতে মুক্ত কোনো সত্তার জন্য এটি প্রযোজ্য নয়। আমাদের সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান ও যুক্তি আমাদেরকে এটাই তো বলে।

তাহলে গডের ক্ষেত্রে বিষয়টি আসলে কী, সেটা টোটালি আমাদের জ্ঞানের ক্ষমতা বা কগনিটিভ ক্যাপাসিটির বাইরের বিষয়। খোদার যাত বা স্বয়ং-সত্তাগত স্বরূপ জানার ব্যাপারে আমাদেরকে হতে হবে অজ্ঞেয়বাদী। আমি একে ঐশী অজ্ঞেয়বাদ বা ডিভাইন এগনস্টিসিজম হিসাবে অভিহিত করেছি।

গডের সাথে আমাদের অনলি লজিক্যাল রিলেশন হলো, হি ইজ দ্যা মাস্টার, উই আর দ্যা স্লেভস। তিনি প্রভু। আমরা তাঁর বান্দা। আমাদের ভালো-মন্দের যে পাল্লা সেটি কিন্তু তাঁরই দেয়া। আমাদের যে ন্যায়-অন্যায় বিবেচনাবোধও তাঁর কাছ হতেই এসেছে। আমাদের জ্ঞানগত ও নৈতিক স্কেলে যদি আমরা পরমসত্তা হিসাবে খোদাকে মাপতে না পারি, তাহলে আমাদের যুক্তিই আমাদেরকে বলে, তিনি সদা সত্য, সদা মঙ্গলময় ও পরম নৈতিক।

কেউ বলতে পারে, ‘আমার দৃষ্টিতে, গড তো সব সময়ে অল গুড নন। বিধবার ছেলেটা মারা গেলো, নির্দোষ লোকটা শাস্তি পেলো– এভাবে অনেক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সামাজিক অনাচার ঘটে, যেগুলো গডের পাওয়ার দিয়েই ঘটে। যেহেতু খোদার হুকুম ছাড়া কোনো কিছুই ঘটে না।’

এ বিষয়ে কথা হচ্ছে, আমরা নিজেরাই বলছি, আমরা অসম্পূর্ণ, আমরা সীমিত, আমরা ইমপারফেক্ট, আমরা পার্টিকুলার। আমরাই বলছি, অ্যাকোর্ডিং টু দ্যা গড হাইপোথিসিস, খোদা যদি থেকে থাকেন তাহলে তিনি হবেন মোস্ট পারফেক্ট, কমপ্লিট অ্যান্ড ইউনিভার্সাল। তাহলে দেখা যাচ্ছে, আমাদের আর খোদার সত্তা তো ক্যাটাগরিক্যালি ভিন্ন।

পুনরাবৃত্তি করে বললে বলতে হয়, মানুষের ওয়ে অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং, স্কেল অব জাস্টিস, প্রিন্সিপালস অব গুড অ্যান্ড ব্যাড ইত্যাদি কীভাবে খোদার ওপর প্রযোজ্য হতে পারে? খোদাকে যদি একজন অতি শক্তিমান মানুষ বা কোনো শক্তিশালী জাগতিক সত্তার সাথে তুলনা করা হয়, তাহলে খোদাকে ইসলাম যেভাবে সংজ্ঞায়িত করে সেটা ভঙ্গ হয়। কেননা, ইসলামের একেশ্বরবাদ অনুসারে খোদার কোনো তুলনা নেই, তিনি কুফুওয়ান আহাদ– কোনো কিছুই তাঁর মতো নয়।

আমাদের ন্যায়-অন্যায়ের যে বোধ, তা খোদা হতে এসেছে। ব্যাস, এতটুকুই। তা না হয়ে আমাদের জাস্টিস সিস্টেমটাকে যদি আমরা খোদায়ী ন্যায়বিচার পদ্ধতির সাথে অভিন্ন মনে করি, তাহলে আমরাও এক ধরনের খোদা হয়ে যাই। আমরা এবং খোদা যদি সেইম-সেইম হয়ে যাই, তাহলে আমরাও যেন হয়ে পড়ি ঈশ্বর-পরিবারের সদস্য। এ ধরনের বড় খোদা, ছোটা খোদা বা সদৃশ খোদার ধারণাকে ইসলাম খারিজ করে দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে গডকে হতে হবে এক, একক, অনন্য-সাধারণ ও তুলনাবিহীন।

এই আলোচনায় দেখা যাচ্ছে, খোদার সাথে তাঁর সৃষ্ট জগতের, সবকিছুর সাথে একমাত্র যৌক্তিক সম্পর্ক হলো প্রভু-অনুগতের সম্পর্ক। আমাদের স্বাধীনতার প্রকৃত তাৎপর্য ও অর্থবহতা হলো, প্রকৃতির নিয়ন্তা হিসাবে স্রষ্টা কর্তৃক নির্ধারিত সীমাগুলো মেনে চলা। এতে করেই আমরা নিজেদের স্বাধীনতাকে আমাদের জন্য নির্ধারিত পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করতে পারি।

আগেই বলেছি, ‘আমাদের স্বাধীনতা নাই’ কথাটি কাউন্টার-ইনটুইটিভ, সেল্ফ-রিফিউটিং ও স্ববিরোধী। অন্য কথায়, স্বাধীনভাবে ‘আমাদের স্বাধীনতা নাই’ কথাটি বলার মাধ্যমেই আমরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই প্রমাণ করি, যে-ই দিক না কেন, সহজাতভাবে আমাদের কিছু না কিছু স্বাধীনতা আছে। অন্ততপক্ষে, ‘স্বাধীনতা নাই’ কথাটা বলার স্বাধীনতা আছে।

হ্যাঁ, আমাদের পূর্ণ স্বাধীনতা নাই। আমাদের স্বাধীনতা কিছু অথরিটির দ্বারা প্রতিসম বা কাউন্টার-ব্যালেন্সড। প্রপার অথরিটিকে মেনে চলাই হচ্ছে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থবহতা। এখানে প্রদর্শিত গ্রাফেই আমরা এটি দেখিয়েছি। কোনো প্রকার অথরিটি বা বাইন্ডিংস থেকে শতভাগ মুক্ত কোনো সত্তারই শুধুমাত্র থাকতে পারে শতভাগ স্বাধীনতা। তেমন সত্তা একজনই হতে পারেন। ইসলামের দৃষ্টিতে খোদা তায়ালাই হচ্ছেন সেই সত্তা।

অ-বিশ্বাসীর দৃষ্টিতে মানুষ প্রকৃতির অধীন। বিশ্বাসীর দৃষ্টিতে মানুষ খোদার অধীন। দিনশেষে উভয় পক্ষই কিন্তু অধীনতাকে স্বীকার করে। উভয়পক্ষই মনে করে, প্রকৃত অধীনতাকে মেনে নেয়াই হলো আমাদের স্বকীয়তা ও স্বাধীনতার দাবি।

বি: দ্র:– এই অলোচনাটি ইতোপূর্বে শেয়ার করেছিলাম। এখন কিছুটা কাট করে সাড়ে সাত মিনিটে এনেছি। এতে মূল কথাটুকু এসেছে। ট্রান্সক্রিপ্ট করার সময় খানিকটা ট্রান্সলেট ও এডিট করেছি। সহজবোধ করার জন্য। আমার সম্পাদিত ‘চিন্তার স্বাধীনতা ও ইসলাম’ বইয়ে এটি ইনক্লুডেড হবে। বইটার সফট কপি শীঘ্রই অনলাইনে পাওয়া যাবে।

ফেসবুক থেকে নির্বাচিত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Sabbir Shanto: কিছু বিষয় অপরিষ্কার রয়ে গেলো। How can God be unique when he behaves likes us in every single way. He talks like humans. He could’ve made sound like anything else, like an animal or something very different and Gabriel could’ve translated it. And why Arabic?

God has feelings just like us. No uniqueness at all. তিনি প্রশংসায় খুশি হন, তিরস্কারে গোসসা হন। এবং এতটাই ভায়োলেন্ট হয়ে যান যে বলার অপেক্ষা রাখে না।

He claims to be all knowing. আপনার সাথে একমত হলে এই ব্যাপারে আমার প্রশ্নই থাকতো না, বাট আমাকে বানানোর লক্ষ বছর আগেই যখন গড জানতো আমি দোযখে যাবো নাকি বেহেশতে then why’d he do something so sadistic like this? জেনেশুনে আমাকে নরকে পাঠানো ঈশ্বর কীভাবে নিজেকে দয়ালু দাবি করবে?

আমি বলছি না He’s dictating me to do all these. But he knew everything millions of years back when I wasn’t even born. He knew I’d eventually go to hell/Heaven, And I can’t prove him wrong either way.

Then what is free choice? Or is it just as simple as “ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ / যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!”

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: আপনি বিষয়গুলো নিয়ে এখানে বলেছেন, সেজন্য খুব ভালো লাগছে। আমার উচিত ছিল, এখানে আপনার সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা। কিন্তু এসব বিষয়ে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে, আমি বেশ বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করেছি। কিছু আছে লেখা হিসাবে। কিছু আছে ভিডিও বক্তব্য হিসেবে। আপনি যদি কিছু মনে না করেন, তাহলে এই লিংকে গিয়ে কিছু প্রাসঙ্গিক লেখা ও ভিডিও বক্তব্য যদি খানিকটা এক্সপ্লোর করেন!

আপনার প্রশ্নগুলোর জবাব এখানে না দেওয়ার জন্য আবারো দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি আশা করছি, আপনি আমার দেয়া লিংক থেকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবেন। কেউ কোনো প্রশ্ন করলে উত্তর না দিয়ে কোনো লিংক ধরিয়ে দেয়াকে আমি নিজেই খুব অপছন্দ করি। তারপরও…

Sabbir Shanto: আপনাকে ধন্যবাদ!  পড়ে দেখি…

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: একটু কষ্ট করে যদি সংশ্লিষ্ট দুয়েকটা লেখা পড়েন এবং কয়েকটা ভিডিও দেখেন, এরপরে যদি আমরা পয়েন্টওয়াইজ আলোচনা করতে পারি, তাহলে মনে হয় ভালো হবে।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

১টি মন্তব্য

Leave a Reply to Ershad জবাবটি বাতিল করুন

ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।

*