সায়েন্সের লোকেরা ফিলোসফিকে স্বীকৃতি দিতে চায় না কেন?

ফিলোসফির লোকেরা সায়েন্স মানে। কিন্তু সায়েন্সের লোকেরা সাধারণত ফিলোসফিকে স্বীকৃতি দিতে চায় না।

কেন এমনটা হয়? জানতে চান?

তাহলে, একজন পাঠকের সাথে আমার এই প্রশ্নোত্তরটি পড়তে পারেন।

স্যার, বহুমাত্রিক বা ভিন্নমাত্রিক জগত নিয়ে ফিলোসফির দৃষ্টিকোণ কেমন হতে পারে? যেমন, কোনো আস্তিক যখন বলে, আত্মা, জ্বিন, ফেরেশতা ভিন্নমাত্রিক জগতের বস্তু বা প্রাণী। বেহেশত বা দোযখ হলো ভিন্নমাত্রিক জগতের গ্রহ। এক্ষেত্রে জগত বললেই সেখানে সময়ের প্রয়োজনীয়তা কি আসে? নাকি, সময়হীন জগত সম্ভব?

আল্লাহ কি নিছকই সকল জগতের সৃষ্টিকর্তা? নাকি, তার নিজেরও কোনো জগত আছে?

আমি যতদূর জানি, ফিলোসফি ইজ দ্যা মাদার অফ সায়েন্স। কোয়ান্টাম ফিজিক্স মাল্টিডাইমেনশন স্বীকার করে। এবং সেটা করে ফিলোসফিক্যাল ভিউ-পয়েন্ট বা হাইপোথিসিস দিয়ে। … তাহলে, কোয়ান্টাম ফিজিক্সকে কি ফিলোসফি বলা যায়?”

স্প্যাম ফোল্ডার চেক না করার কারণে এতদিন পর্যন্ত আমি মেসেজটা পড়তে পারিনি। দেরি হয়ে গেল! সেজন্য দুঃখিত।

আর হ্যাঁ, জগতে multi-dimension আছে এটি বিজ্ঞান স্বীকার করে। বিজ্ঞানীরা স্ট্রিং থিওরির সমর্থনে ১১ মাত্রাসম্পন্ন ভৌত জগতের কথা বললেও, বিজ্ঞানের অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য যদি খেয়াল করি তাহলে আমরা বুঝতে পারি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও জ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে খুব সম্ভবত এই মাত্রার সংখ্যা আরও বাড়বে। এবং যত মাত্রার কথাই আমরা বলি না কেন, বা হতে পারে ডাইমেনশন মাত্রার প্রকৃত অবস্থা ভিন্নতর।

পার্টিকুলার এন্টিটি হিসেবে জগতের সামগ্রিক বাস্তবতা তথা অ্যাবসলিউট রিয়েলিটিকে আমরা কখনোই পুরোপুরি জানতে পারি না, পারবো না, পারার কথাও নয়। আমাদের যুক্তি আমাদেরকে এটা বলে। তারপরও আমরা জানতে চাই। এবং বাস্তবিকই অনেক কিছু জেনেছি ও জানতে পারি। ভবিষ্যতে এই জানার পরিধি আরও বাড়বে। কিন্তু কখনো সেটা ‘প্রকৃত বাস্তবতা’কে ছুঁতে পারবে না বা অতিক্রম করে যেতে পারবে না। পার্টিকুলার-অ্যাবসলিউট রিলেশনের অন্টোলজি দিয়ে আমরা এটি বুঝতে পারি।

অতীতের জ্ঞানের নিরিখে আমাদের বর্তমান জ্ঞান সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও নিশ্চিত। Yet, any knowledge of science is always falsifiable. হাতে থাকা বা আওতার মধ্যে থাকা তথ্য, প্রমাণ, যুক্তি ও সাক্ষ্য ইত্যাদির ভিত্তিতে আমরা কোনো কিছুকে সঠিক ও নিশ্চিত হিসেবে গ্রহণ করি। কিন্তু আমরা নিজেরাই জানি, যে কোনো ‘মানবিক নিশ্চয়তা’ হলো ‘আপাত নিশ্চয়তা’ বা ‘আমাদের জন্য নিশ্চয়তা’।

মানুষ যদি নিশ্চিতভাবে কোনো কিছু জানতে চায়, তাহলে তাকে বিজ্ঞান পেরিয়ে দর্শনের সাহায্য নিতে হবে। কথাটা খেয়াল রাখতে হবে, আমি বলেছি ‘বিজ্ঞান পেরিয়ে’; তার মানে হলো আমাদের কোনো জ্ঞানই বিজ্ঞানকে বাদ দিয়ে বা অগ্রাহ্য করে সম্ভব হতে পারে না। একই সাথে, শুধুমাত্র বিজ্ঞান দিয়েও আমাদের চলবে না।

বিজ্ঞান শুরু হয় দর্শন দিয়ে। আবার বিজ্ঞান যেখানে গিয়ে শেষ করে, এর পরের অংশটুকু পিউর এন্ড এক্সক্লুসিভলি এরিয়া অফ ফিলোসফি। বিজ্ঞানের সব কিছু দাঁড়িয়ে আছে কিছু দার্শনিক অনুমানের উপর ভর করে। Principle of uniformity of nature বা PUN হলো এর অন্যতম।

দর্শনের বহুমাত্রিকতা ও বিকল্পগুলোর মধ্য থেকে কেউ যখন কোনো একটাকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করে গ্রহণ করে নেয়, তখন কার্যত তিনি দর্শনের ওপেননেস এবং ইনক্লসিভনেসকে পরিত্যাগ করে এক ধরনের বিশ্বাসব্যবস্থার সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। ব্যক্তিমানুষ হিসাবে আমরা এ জগতে বাস্তবে নিরপেক্ষ থাকতে পারি না। এমনকি, নিরপেক্ষতাও এখানে একটা পক্ষ হিসাবে হাজির হয়। এভাবে ব্যক্তি-মানুষের কাছে দর্শন এক পর্যায়ে ধর্ম হয়ে উঠে। প্রচলিত কোনো ধর্মের সাথে এই ‘ব্যক্তিগত ধর্ম’-এর মিল হতেও পারে, নাও হতে পারে।

সে যাই হোক। প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশ নিয়ে খানিকটা বলি।

কোয়ান্টাম ফিজিক্সের মধ্যে ফিজিক্স কম, ফিলোসফি বেশি। সেটার নেচার অনুসারে এটি অবশ্যম্ভাবী।

একটা মজার গল্প প্রচলিত আছে। একজন গণিতবিদ, একজন পরিসংখ্যানবিদ এবং একজন কসমোলজিস্ট ট্রেনে করে অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে কোথাও যাচ্ছিলেন। ট্রেন থেকে তারা একটা ডোরাকাটা অস্ট্রেলিয়ান গরু দেখে পরস্পরের মধ্যে বলাবলি করছেন।

মহাকাশ নিয়ে যিনি গবেষণা করেন তিনি বললেন, “দেখো অস্ট্রেলিয়ার গরুগুলো এ রকম ডোরাকাটা।” পরিসংখ্যানবিদ বলল, “না। তোমার কথা ভুল। বরং অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ গরু এ রকম ডোরাকাটা।” আর গণিতবিদ বললো, “তোমাদের দুজনের কথাই ভুল। তোমরা বরং বলো, অস্ট্রেলিয়ার কমপক্ষে একটা গরু এ রকম ডোরাকাটা।”

এই গল্পটা থেকে আমরা বুঝতে পারি, একেক ধরনের ডোমেইন ও ডিসিপ্লিনে একই বিষয় সম্পর্কে আলাপ আলোচনার পদ্ধতি একেক রকমের। একই তথ্য থেকে ভিন্ন ভিন্ন ডিসিপ্লিন ভিন্ন ভিন্ন রকমের তত্ত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ব্যক্তির ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণের পার্থক্যের কারণে যেমন একই বিষয়ে পর্যবেক্ষন ভিন্ন ভিন্ন হয়, তেমনি করে ভিন্ন ভিন্ন ডিসিপ্লিনের স্পেসিফিক মেথডলজির কারণে একই বিষয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

নানা ধরনের knowledge faculty বা ডিসিপ্লিনের পারস্পরিক সাদৃশ্য, বৈসাদৃশ্য ও পূর্বাপর সম্পর্ক নিয়ে অনেকেরই স্বচ্ছ ধারণা নাই। যদিও তারা স্ব স্ব ফিল্ডে যথেষ্ট জ্ঞানী-গুণী, গবেষক ও বিদ্যজন। অন্যান্য ডিসিপ্লিনের সাথে নিজের ফিল্ড অব ইন্টারেস্ট ও ডিসিপ্লিনের পারস্পরিক মিল-অমিল সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার কারণে ইন্টারডিসিপ্লিনারি আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেজন্য কোনো একটা বিষয়ে বিশেষ করে জানার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে একটা সামগ্রিক কিন্তু স্বচ্ছ ধারণা অর্জন করা জরুরি।

সায়েন্স, ফিলোসোফি ও রিলিজিয়নের সম্পর্ক নিয়ে আমি অনেকগুলো পোস্টার তৈরি করেছি। এর একটি এখানে দিলাম।

ফেসবুক থেকে নির্বাচিত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

আক্কাস আলী: Dear Sir, why do you think a particular being will never know an absolute reality of something?

Mohammad Mozammel Hoque: by definition, part can’t fully grasp or conceive the whole. moreover, when the ‘whole’ is unlimited or infinite. this is logical and ontological necessity.

আক্কাস আলী: I know that God is whole, but what about everything else? Isn’t it a logical fallacy to say that since we cannot know about The absolute being (God), I cannot know the absolute reality of everything else?

Mohammad Mozammel Hoque: God is a relevant issue here, in this discussion. not the central issue. Once again, the main thing and the most important issue is the ontology of absolute-particular relation. From particular’s point of view, there has to be some ENTITY which is Absolute. otherwise, the particular cannot be particular at the very first place.

particulars know the Absolute by their own existences and by the mood of their relation with the Absolute, i.e. how the absolute appears to the particulars. for the particulars, Absolute’s existence is knowable, but not the True Reality of the Absolute.

to know something’s existence and to know the specific inner attributes or ontology of that existence, these two are different aspects.

we know the ocean is big. but we don’t know for sure what the things are there in the ocean(s) and how big it is. Moreover, the case of us and the oceans belongs to close ended category. Whereas the case of Absolute and the particulars relation is a matter of open-ended category or relation.

That’s why, the Absolute’s existence is knowable, but only by Its appearing or revealing characteristics, which are suitable or understandable by the particulars.

আক্কাস আলী: Sir, thank you for the response. To better understand the topic, I would like to elaborate my thoughts here.

From your response I have understood that the absolute-particular relation is more focused (if not only applicable) on God vs creation, not creation vs creation. In other words, I can know the True Reality (প্রকৃত বাস্তবতা) of anything inside or outside of this universes, but true reality of God cannot be known. Right? Or, true reality of ‘Anything’ cannot be known according to Philosophy?

Actually, I was thinking that although we humans have limitations as a particular being, but we can use Collective Intelligence, Artificial intelligence (AI) and Quantum Computers to not only overcome our limitations, but also understand the “true reality” of many (if not all) natural and universal phenomenons.

For instance, if we want to know the true reality of “Gravity” or “Consciousness”, we will be able to do that in near future by using our advance technologies. It basically means we are not bound by our limitations.

However, our limitations ONLY apply on knowing the Absolute being, The God. We can only know him by his appearing and ontological characteristics, not by the true reality. Right?

Mohammad Mozammel Hoque: I would rather suggest you to explore (1) the hard problem of consciousness, by David Chalmers, and (2) concept of reality in philosophy, specifically the ontology of reality, and (3) the incompleteness theorem by Kurt Godel, (4) and identity of the self in philosophy of mind, finally, (5) the qualification problem. never mind please!

আক্কাস আলী: Ok will go through those books and theories.

Mohammad Mozammel Hoque: Oh, sorry! these are not books, but theories and issues.

These matters show that the fundamental concepts or understandings are not clear to us, though we have to use some concepts as fundamental in our applied fields.

we don’t know the intrinsic characteristics of consciousness. consciousness is quite mysterious. we deal with reality, yet the question of reality is not settled by philosophy. it’s actually undefined and not solve-able. we do math with formula and axioms. but mathematical axioms are incomplete within the concerned axiomatic system. our person-hood or identity is unidentified to us. we are yet to resolve the conflict and gap between quality with quantity. we claim to get precision through quantification. though we know that quality can’t be quantified.

Our limitations are obvious. we sometimes easily ‘solve’ the problem without understanding first the very criteria or scale by which we are doing our judgment and measurement.

Mohammad Mozammel Hoque: I am not an AI enthusiast. I have my theory on that. If you are interested and have time, you can check these videos:

1. AI, Singularity & Constant Gap Theory (CGT)

2. Constant Gap Theory (CGT) বিষয়ে সেমিনারে উপস্থাপিত বক্তব্

3. Constant Gap Theory (CGT) বিষয়ে সেমিনার পরবর্তী প্রশ্নোত্তর

আক্কাস আলী: Google claims ‘quantum supremacy’ for computer

স্যার, Quantum Supremacy অর্জিত হলে পূর্ণ আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স (AI) অর্জন কঠিন কোনো কাজ হবে না।

Mohammad Mozammel Hoque: কেউ যদি সাবজেক্টিভিটিকে নিছক ফিজিক্যাল ফেনোমেনা বলে মনে করেন এবং এই দৃষ্টিভঙ্গিই যদি এ বিষয়ে একমাত্র সঠিক উত্তর হয়ে থাকে, তাহলে পূর্ণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কখনো না কখনো অবশ্যই সম্ভবপর হয়ে উঠবে। এই দৃষ্টিভঙ্গির অন্তর্গত ধারণা বা underlying assumption হলো, ন্যাচারাল বা রিয়েল বলে সত্যিকারের কোনো ভাগাভাগি নাই। অর্থাৎ, রিয়েল বলে রিয়েলি কিছু নাই। তারমানে হলো, সবকিছুই আদতে আর্টিফিশিয়াল। যদিও আমরা কিছু কিছু আর্টিফিশিয়াল এন্টিটিকে ভুল করে রিয়েলি রিয়েল বলে মনে করি। এই ধারণাটি কন্ট্রাডিক্টরি এবং self-refuting।

অপরদিকে, যে ব্যক্তি ফিজিক্যালিজমকে কিংবা এর ভেরিয়েশনগুলোর কোনোটিকেই সঠিক বলে মনে করেন না এবং যিনি কোনো না কোনো ধরনের সত্তাগত দ্বৈতবাদ বা ontological dualism-এ বিশ্বাসী, স্বভাবতই তিনি মনে করবেন, সাবজেক্টিভিটির সাথে ফিজিক্যালিটির সম্পর্ক অভিন্ন নয়, বরং আবশ্যিক (necessary, but not identical)।

এমন ব্যক্তির কাছে David Chalmers-এর চেতনার হার্ড প্রবলেমের মতো, মানুষের সাবজেক্টিভিটিও একটি বাস্তব অথচ ফিজিক্যালিটির ঊর্ধ্বতন বিশেষ ‘একটা কিছু’ যা কার্যকর কিন্তু ব্যাখ্যাতীত। এমন ধরনের ontologically non-monist ব্যক্তির মতে, আর্টিফিশিয়াল এবং রিয়েল, এই দুইটা বিষয় বাই ক্যাটাগরি আলাদা হওয়ার কারণে তাত্ত্বিক বা ontological দিক থেকে আমরা নিশ্চিত বলতে পারি, আর্টিফিশিয়াল কোনো এন্টিটি কখনো রিয়েল হয়ে উঠবে না; কিংবা উঠতে পারবে না।

এহেন দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী ব্যক্তিবর্গের মতে, কম্পিউটারের অকল্পনীয় ডেভলপমেন্ট হবে বটে। তবে তা হবে শুধুমাত্র ফাংশনাল বা এফিশিয়েন্সি রিলেটেড আসপেক্টে। সাবজেক্টিভিটি বা ক্রিয়েটিভিটির দিকগুলোতে কোনো আর্টিফিশিয়াল এন্টিটি আসতে পারবে না।

এই পর্যায়ে এসে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও সৃজনশীলতা বা intrinsic creativity থেকে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও সৃজনশীলতার অনুকরণ (mimic) বা সাদৃশ্যমূলক রিপ্রেজেন্টেশনকে অবশ্যই আলাদা করে দেখতে হবে। ক্রিয়েশন এবং সিমিউলেশন এর পার্থক্য স্মরণে রাখতে হবে।

এসব বিষয় নিয়ে philosophy of artificial intelligence শিরোনামে যে কোর্সটি আমি অনার্স ফোর্থ ইয়ারে পড়াই, সেখানে বিস্তারিত আলোচনা আছে।

লেখাটির ফেসবুক লিংক | মন্তব্যের ফেসবুক লিংক

আপনার মন্তব্য/প্রশ্ন লিখুন

ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।

*