আক্বল তথা বুদ্ধি বনাম নক্বল তথা অন্ধ অনুসরণ

আক্বল হলো সকল জ্ঞানের ভিত্তি। আমাদের আক্বল যখন কাউকে বা কোনো সূত্রকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য জ্ঞানের অথরিটি হিসেবে গ্রহণ করতে বলে তখন আমরা ওই ব্যক্তি বা সূত্রকে নক্বল করি। সেই হিসেবে দিনশেষে আক্বল তথা বুদ্ধিই হচ্ছে মানুষের মানুষ হবার মূল বিষয়।

নবী কখনো আমাদের সকল জ্ঞানের উৎস হতে পারে না। বরং আমাদের অভিজ্ঞতা ও যুক্তি বুদ্ধির সাথে নবীর কথাগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সেজন্য আমরা সেই কথাগুলোকে মেনে নেই। অন্যান্য সব ধরনের অথরিটির ব্যাপারেও আমরা একই কাজ করে থাকি। নবী হচ্ছে এক ধরনের জ্ঞানের অথরিটি।

আমাদের সকল জ্ঞানের আল্টিমেইট উৎস, মানদণ্ড ও লক্ষ্য হচ্ছে, সেক্যুলার সেন্সে ‌‘প্রকৃতি’; আর ইসলামিক সেন্সে আল্লাহ তায়ালার মহান সত্তা।

বুদ্ধি ছাড়া আমাদের জ্ঞানের অন্যান্য যেসব উৎস আছে সেগুলোকে জ্ঞানের উৎস হিসেবে প্রাথমিকভাবে আমরা আইডেন্টিফাই করতে পারি বুদ্ধির মাধ্যমেই। আমরা একজন ডাক্তারকে যখন চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত মনে করি, সেটি আমাদের কাণ্ডজ্ঞান ও বুদ্ধির কারণেই মনে করি। এভাবে উপযুক্ত সাব্যস্ত করার পরে ডাক্তারের চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপত্রটাকে আমরা আপাতদৃষ্টিতে অন্ধভাবে গ্রহণ করি। এভাবে সকল ক্ষেত্রে আমরা এই ধরনের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বা কৌশলকে মেনে চলি।

বুদ্ধি আমাদেরকে জ্ঞানের মূল কাঠামো দেয় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অ্যাডভান্সড লেভেলের বিস্তারিত জ্ঞান পাওয়ার জন্য উপযুক্ত উৎস বা অথরিটির সন্ধান দেয়।

Excessive emphasis on reason is not a problem. wrong kind of exercise and audacity are the problems.

Category mistake of reasoning is the problem. when someone does category mistake, it is his problem; not the problem of exercising reasoning itself.

এনটিটি বা সত্তা হিসেবে আমরা যেহেতু সীমাবদ্ধ বা লিমিটেড, সেহেতু আমাদের জ্ঞান এবং বুদ্ধির ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা লিমিটেড। অথচ আমরা কোনো বিষয়ে সবকিছু অথবা যথাসম্ভব বেশি কিছু জানতে চাই।

বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা আছে বলেই বুদ্ধি আমাদেরকে বলে, অমুক অমুক বিষয়ে তুমি অমুক অমুক সোর্স বা অমুক অমুক পারসনের কাছে যাও এবং তাদের কথাকে গ্রহণ করে নাও। সে হিসেবে আল্টিমেইটলি বুদ্ধি হচ্ছে আমাদের গাইড, যদি আমরা বুদ্ধির দাবিকে অকপটে গ্রহণ করে নেই।

আপনি কেন বৈজ্ঞানিকদের কথাগুলোকে মেনে নেন। আপনি তো বৈজ্ঞানিকদের মতো সবকিছু পরীক্ষা করে দেখেন নাই। এমনকি, বৈজ্ঞানিকদের একটা দল যখন একটা গবেষণাকর্ম সম্পাদন করে তখন তারা তো নিজেদের কাজগুলো ছাড়া তাদের টিমের অন্য মেম্বারদের কাজগুলোকে যাচাই করতে পারে না। বরং তাদের দেওয়া তথ্য উপাত্তগুলোকে তারা গ্রহণ করে নেয়।

এডাবে জীবন চলার পথে সব সময় আমরা কোনো না কোনো অথরিটির উপর নির্ভর করে থাকি। অথরিটিকে অথরিটি হিসেবে আইডেন্টিফাই করতে পারা এবং ওই অথরিটির সীমা কতটুকু সেটা বুঝতে পারা, এই কাজগুলো আমাদের করতে হয় নিজেদের যুক্তিবুদ্ধিকে প্রয়োগ করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বলতে পারি আমাদের জ্ঞানের মূল চালিকা শক্তি বা ভিত্তি হলো আমাদের যুক্তিবুদ্ধি।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

আপনার মন্তব্য/প্রশ্ন লিখুন

ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।

*