ফ্রি উইল, ডিটারমিনিজম, লিবার্টারিয়ানিজম এবং কম্পাটিবিলিজম

Free Will, Determinism, Libertarianism এবং Compatibilism নিয়ে আগে এত ভাবিনি। খুবই জটিল মনে হচ্ছে। ইউনিতে ফেল করতাম এসব থাকলে। 😃

– আক্কাস আলীর ফেসবুক স্ট্যাটাস

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Mohammad Mozammel Hoque: Scientifically, there is no scope of ‘free-ness’ in nature. Nature is run by fixed laws. freedom is an illusion.

ইচ্ছার স্বাধীনতা নৈতিকতার স্বতঃসিদ্ধ বা অন্যতম স্বীকার্য সত্য হওয়ার কারণে এসব বিজ্ঞানবাদীগণ (যাদেরকে আমি sciencists হিসাবে বলি) ইচ্ছার স্বাধীনতা এবং অদৃষ্টবাদের মাঝামাঝি compatibilism বলে একটা কনসেপ্ট নিয়ে এসেছে। একে সফট-ডিটারমিনিজমও বলা হয়

অতএব, মানুষের যদি সত্যিই ইচ্ছার স্বাধীনতা থেকে থাকে, তাহলে মানুষ নিছক বৈজ্ঞানিক নিয়ম-কানুন দ্বারা পরিচালিত জড় মাত্র নয়। বরং নিজের জঢ় বা জৈব গঠনের বাইরে মানুষের একটি স্বতন্ত্র অবস্তুগত সত্তা আছে, যেটা নৈতিক নিয়মের অধীন।

ধর্মীয় পরিভাষায় যেটাকে আমরা আত্মা হিসেবে বলি।

আক্কাস আলী: ধন্যবাদ স্যার। তাকদীর বা নিয়তিবাদ নিয়ে আগে তেমন ভাবিনি। আপনার পোস্ট পড়েই ভাবছিলাম। প্রাথমিক দৃষ্টিতে ফ্রি উইল থিওরিই অধিক যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে এতদিন। কিন্তু আজ জানলাম অধিকাংশ চিন্তাবিদই ফ্রি উইলের প্রচার করেননি। এমনকি আইনস্টাইন পর্যন্ত deterministic ছিলেন। কী আজব!! হাহাহা। 😃😃 সৃষ্টিকর্তার সংজ্ঞা নির্ধারণে এসব নিয়ে একটু পড়াশোনা করা জরুরি মনে হয়েছে। স্যার, আপনাকে আবারো ধন্যবাদ এই বিষয় সামনে নিয়ে আসার জন্য।

Mohammad Mozammel Hoque: আমার সাম্প্রতিক একটা পোস্টে “আমি তকদির এ বিশ্বাসী নই। কাজেই 🙊🙊” – এই কথার উত্তরে আমি Sabbir Shanto-কে বলেছি,

‘আমি তাকদীরে বিশ্বাসী নই’ – এই কথাটাও কিন্তু এক ধরনের শরীরী-তাকদীর দিয়ে তথা নির্ধারিত শারীরিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কিন্তু আপনাকে বলতে হচ্ছে। আপনি ভাবছেন, আর যাদেরকে বলতে চাচ্ছেন, তারা আপনাতেই বুঝা যাবে – এমন কোনো সিস্টেম নাই। কখনো হতেও পারে না। কোন না কোনো পূর্ব নির্ধারিত প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো কর্ম সম্পাদনের জন্য আমি আপনি বা প্রত্যেকে বাধ্য। আমাদের ওপর এই বাধ্যবাধকতা আমরা নিজেরা আরোপ করিনি। সেটা প্রকৃতি কিংবা ঈশ্বর আমাদের ওপরে আরোপ করেছেন। ভাষাটা সেটার একটা উদাহরণ। মৌখিক ভাষার মতো ভোকাল কর্ডের মাধ্যমে না হলেও সেটা হতে হবে স্নায়বিক প্রক্রিয়া রেকর্ড করা এবং ট্রান্সমিট করার মাধ্যমে। অথবা অন্য কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ইন আইদার সিচুয়েশন, আপনাকে কোনো না কোনো লিমিটেশনের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে।

তাকদীর হচ্ছে এই ধরনের লিমিটেশন, যেটাকে সংশ্লিষ্ট এন্টিটি অতিক্রম করে যেতে পারে না। এখন সেটি ওয়ান-টু-ওয়ান হবে নাকি একটি ব্রড বাউন্ডারির মধ্যে হবে সেটা ভিন্ন বিষয়। অর্থাৎ আপনি যখন রেলগাড়িতে যান তখন ট্রেন লাইনের যে বিট, আপনি সেটার বাইরে যেতে পারেন না। আর যখন রাস্তায় কোনো গাড়ি চলে তখন সেইটা রাস্তার ডান দিকে কিংবা বাম দিকে কিংবা মাঝখানে, যে কোনোখান দিয়ে যেতে পারে। একই কথা উড়োজাহাজ এবং জাহাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

আমাদের এই শরীরী সীমাবদ্ধতার মতোই আমাদের জ্ঞানগত ও মানসিক সীমাবদ্ধতা, বুঝজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, বুদ্ধিবৃত্তির সীমাবদ্ধতা, এক কথায় আমাদের অস্তিত্বগত সীমাবদ্ধতা।

সীমাবদ্ধতাগুলোকে তখনই টের পাওয়া যায় যখন আমরা সেগুলোকে অতিক্রম করার চেষ্টা করি, অথবা সেগুলোর মধ্যে কোনো ত্রুটি বা ঘাটতি তৈরি হয়, অথবা যখন আমরা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে নতুন সম্ভাবনা বা সক্ষমতা অর্জন করি। এছাড়া বাকি সময়ে আমরা বুঝতেই পারি না যে আমরা একটি প্রদত্ত বা নির্ধারিত সীমার ভিতরে ‘স্বাধীন’।

স্বাধীনতা মাত্রই হলো অথরিটি এবং লিবার্টির মধ্যে একটা সমন্বয়।

আপনি জানেন কিনা জানি না, যারা বিজ্ঞানবাদী তারাও কিন্তু determinism-এর কথা বলে। যদিও তারা এটাকে compatibilism নামক একটা পোশাকি কথার আড়ালে কখনো কখনো সেটা ঢাকার চেষ্টা করে।

Sabbir Shanto: মানে মূলভাব কি এই হলো যে– যেমনে নাচাও তেমনি নাচি পুতুলের কি দোষ?

Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ ঠিক তাই from the no-where point of view থেকে। এই ‘নো হয়ার পয়েন্ট অব ভিউ’ হতে পারে শুধুমাত্র from outside of the world or universe থেকে। এহেন সুনির্দিষ্ট ‘একটা কিছু’ যদি থেকে থাকে, তাহলে তা হতে পারে শুধুমাত্র ঈশ্বর।

বলাবাহুল্য ঈশ্বর-বিশ্বাসীদের দৃষ্টিতে খোদা হচ্ছে প্রকৃতির নিয়ম তথা প্রকৃতির স্রষ্টা এবং নিয়ন্তা। God is the embodiment of the laws of nature or rules of Physics.

এবার আসেন ফ্রম গড টু ওয়ার্ল্ড তথা প্রকৃতির দিক থেকে দেখতে গেলে, জগতের সবকিছুই হচ্ছে প্রাকৃতিক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এখানে কারো স্বাধীন হওয়ার তথা সামগ্রিক পরিচালনা বিধির বাইরে গিয়ে কিছু করার কোনো অবকাশ নাই।

এগুলো আমার কথা নয়। যারা বিজ্ঞানবাদী, আমার ভাষায় sciencists, এসব তাদেরই কথা।

আমরাও আমাদের কাণ্ডজ্ঞান দিয়ে এটি বুঝতে পারি। অংশ, সমগ্রকে পরিচালনা করে না। কিন্তু সমগ্র, সামগ্রিকভাবে বা সার্বিকভাবে প্রতিটি অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটিই স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত।

এই দৃষ্টিতে দেখলে দেখা যায়, ঈশ্বর কিংবা প্রকৃতি হচ্ছে সমগ্র বা সার্বিক। আর আমরা মানুষেরা হচ্ছি অংশ বা বিশেষ, আই মিন, পার্টিকুলার। এ পর্যায়ে এসে অংশ আর বিশেষের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, সেটা আপনি সহজেই বুঝতে পারেন।

আমার এই কথাগুলোর সাথে আমার স্ট্যাটাসে ইচ্ছার স্বাধীনতা সম্পর্কে আমি যে কথাগুলো বলেছি সেগুলোকে বিবেচনায় রাখতে হবে। সেখানে বলেছি,

আমাদের দিক থেকে অর্থাৎ from world to God, মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা থাকাটা অনস্বীকার্য বাস্তব সত্য তথা empirical fact। সেখানে বিস্তারিত বলেছি তাই এখানে আর নতুন করে তেমন কিছু বলছি না।

অতএব বুঝতেই পারছেন, বিষয়টা একেক দিক থেকে একেক রকম। সাবজেক্টিভিটির দিক থেকে একরকম। ব্যক্তি-নিরপেক্ষ তথা অবজেক্টিভ দিক থেকে অন্য রকম। ব্যক্তির দিক থেকে ব্যক্তি স্বাধীন। জগতের দিক থেকে ব্যক্তির স্বাধীনতা সীমিত কিংবা অসম্ভব। ইসলাম ও অনৈসলাম, সব প্রেক্ষাপটেই এটি সমভাবে সত্য।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

আপনার মন্তব্য/প্রশ্ন লিখুন

ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।

*