খোদার অস্তিত্ব সম্পর্কে যুক্তি আর অযুক্তির বাছবিচার

যুক্তি, সুযুক্তি, অযুক্তি বা কুযুক্তি, আমরা যা-ই বলি না কেন, সবার আগে আমাদেরকে পরিষ্কার করে বুঝতে হবে, যুক্তি জিনিসটা আসলে কী। আসলে যুক্তি হলো যুক্তি। যুক্তিকে বুঝতে হয় যুক্তি দিয়ে। অযুক্তি বা কুযুক্তিও হলো এক ধরনের যুক্তি। যুক্তি হয় না সত্য কিংবা মিথ্যা। যুক্তি হয় শক্তিশালী অথবা দুর্বল। সত্যতা বা মিথ্যাত্ব হলো কোনো যুক্তিকে গ্রহণ করা বা না করার কারণ কিংবা অজুহাত।

যুক্তির বাইরে কোনো যুক্তি নাই। যুক্তি থেকে তাই নাই মুক্তি। ‘যুক্তি লাগবে না’– এই কথার পক্ষেও আমাদেরকে কোনো না কোনো যুক্তিকে ‘প্রমাণ’ হিসাবে উপস্থাপন করতে হয়। এ দুনিয়াতে প্রমাণ বলে কিছু নাই। যা আমরা প্রমাণ হিসেবে দাবি করি এবং শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করি আসলে তা হলো আমাদের কাছে অজ্ঞাত কারণে ইনটুইটিভলি গ্রহণযোগ্য মনে হওয়া বিশেষ কোনো যুক্তি। ‘Proof’ is nothing but agreed and accepted argument or logic.

যুক্তির রয়েছে বিশেষ সক্ষমতা ও সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা। মজার ব্যাপার হলো, একে আমরা যুক্তি দিয়েই জানতে পারি। ফিলোসফির কেতাবি পরিভাষায় একে বলে তত্ত্ববিদ্যা বা অন্টোলজি তথা অন্টোলজিক্যাল লাইন অব আর্গুমেন্ট। এই দৃষ্টিতে যুক্তিই হলো পরম বা absolute। ইসলামের দৃষ্টিতে সৃষ্টিকর্তা হলেন যুক্তি-বুদ্ধির চূড়ান্ত মাপকাঠি বা শেষ ঠিকানা। এই অর্থে ঈশ্বরই হলেন একমাত্র যুক্তি। The Final Argument। ঈশ্বর ও যুক্তি অভিন্ন (identical) সম্পর্কের। আমাদের জন্য যুক্তি হলো হাতিয়ার। যুক্তির সাথে মানুষের সম্পর্ক অনিবার্যতার। নেসেসারি রিলেশান বলতে যা বুঝায়। স্রষ্টার জন্য যুক্তি অপরিহার্য নয়। বরং তিনিই হলেন যুক্তির মূল উৎস। তাই তাঁর ক্ষেত্রে যুক্তি-অযুক্তি-কুযুক্তি ইত্যাদি ধরনের যৌক্তিকতা বা অযৌক্তিকতা হওয়াটাই অসম্ভব।

পরম কোনো সত্তা যদি থেকে থাকেন, তিনি যুক্তির ঊর্ধ্বে হবেন না। কেননা, যুক্তি দিয়েই তিনি জগত পরিচালনা করেন। যদিও সেখানে আছে যুক্তির ক্রমসোপান। এ ধরনের কোনো পরমসত্তা আবার যুক্তির অধীনেও হবেন না। কারণ, তাঁর ঊর্ধ্বতন কোনো সত্তা হতে পারে না, যিনি স্রষ্টার ওপর যৌক্তিক কাঠামো আরোপ করবেন। আমাদের যুক্তি, বুদ্ধি, কাণ্ডজ্ঞান ও বিবেকবোধ আমাদেরকে এ কথাই বলে।

অস্তিত্বের দিক থেকে কেবলমাত্র খোদার অস্তিত্বই হলো একমাত্র, সত্যিকারের ও স্বয়ম্ভর অস্তিত্ব। খোদার অস্তিত্বের মোকাবেলায় অন্য কোনো অস্তিত্ব অসম্ভব ও অবাস্তব। non-existent at the very first place। কথাটা উল্টা করে বললে এভাবে বলতে হয়, যুক্তি-বুদ্ধির চূড়ান্ত উৎস হিসেবে স্রষ্টা আছেন বলেই আমাদের এই নানা ধরনের যুক্তি-বুদ্ধি চর্চা সম্ভবপর হয়েছে। খোদার অস্তিত্ব আছে বলেই জগত অস্তিত্বসম্পন্ন হয়েছে ও আছে। পরম সত্য হিসেবে তিনি আছেন বলেই সত্যতার এই বস্তুগত বাস্তবতা আমরা দেখতে পাই ও বুঝতে পারি।

স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকার করে না নিলে মানবীয় জ্ঞান, বুদ্ধি, চিন্তার মৌলিকত্ব ও সভ্যতাগত বিশেষত্বের অবজেক্টিভিটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমরা প্রমাণের বোঝা বা burden of proof-এর ঝামেলার মধ্যে পড়ে যাই। স্রষ্টাহীন কোনো পৃথিবীতে অস্তিত্ববাদী মৌলিক প্রশ্নগুলোকে আমরা শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি না, কিছু নির্বিচার অন্ধবিশ্বাসকে গ্রহণ করে নেয়া ছাড়া। সে জন্য, জোঁকের মুখে লবণ দেয়ার মতো, প্রকৃতির প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন করলে নাস্তিকেরা খামোশ হয়ে যায়। আপসে কেটে পড়ে।

এবার আসেন পরবর্তী আলোচনায় যাই। আমাদের দিক থেকে এ জগত হলো যুক্তি ও বুদ্ধিনির্ভর। এখানে আছে সত্যতা। আছে ন্যায়। আছে অবজেক্টিভিটি। হোক সেটা মেটাফিজিক্যাল কিংবা এপিস্টেমোলজিক্যাল।

এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমি সব সময়ই দুইটা দৃষ্টিকোণের পার্থক্য বজায় রেখে চলি এবং অন্যদেরকেও এটি খেয়াল রাখার জন্য বলি। সদা স্মর্তব্য, এ দুটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক বিষয় হলো, কনটেক্সট বা প্রেক্ষিত-বিবেচনা। এর একটা হলো আমাদের অস্তিত্ব, বিশেষ সত্তা ও ব্যক্তিচেতনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে জগত ও খোদাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। যাকে আমি from world to God হিসেবে সাধারণত বলি। আরেকটা হলো, খোদার দিক থেকে জগত ও আমাদেরকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। যাকে আমি from God to world হিসেবে সাধারণত বলে থাকি। সৃষ্টির দৃষ্টিতে সৃষ্টিকর্তা আর সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টিতে সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং, এই দুইটা দৃষ্টিকোণ তো আমাদের যুক্তি, বুদ্ধি ও বোধ অনুসারেই ভিন্নতর। এক হওয়ার কথা নয়।

আমরা, মোর স্পেসিফিক্যালি, আমরা মানুষেরা জন্মগতভাবে কিছু মৌলিক যুক্তি, বুদ্ধি ও বোধ নিয়ে জীবন শুরু করি। আমাদের এই যুক্তি, বুদ্ধি ও বোধ আমাদেরকে শেষ পর্যন্ত খোদার অস্তিত্বের দিকে নিয়ে যায়। এই যুক্তি, বুদ্ধি ও বোধই আমাদেরকে বলে দেয়, যুক্তি-বুদ্ধি-বোধের রয়েছে সীমাবদ্ধতা। আমাদের এই ইনহারেন্ট সীমাবদ্ধতার কারণ হলো আমাদের সত্তাগত সসীমতা। একে আপনি ‘ত্রুটি’ বলতেও পারেন, না বললেও অসুবিধা নাই।

আমাদের যুক্তি, বুদ্ধি ও বোধের এটি বিশেষ অনন্যতা হলো, আমরা বুঝতে পারি, যেই পরম সত্তার উৎস থেকে আমাদের এই যুক্তি, বুদ্ধি ও বোধের উৎপত্তি, আমরা যদি আমাদের জ্ঞানগত সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার করে এর সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে যেতে চাই, অর্থাৎ আমরা যদি পরিপূর্ণভাবে অখণ্ড সত্যতাকে পেতে চাই তাহলে আমাদের উচিত হলো সেই পরম সত্তার কাছ থেকে আসা সত্যকে সর্বান্তকরণে গ্রহণ করে নেয়া। এই কথাগুলো বাংলাতে লেখা হলেও ধারণা করছি, কারো কারো কাছে খানিকটা কঠিন মনে হতে পারে। সেজন্য কথাটাকে সহজ ভাষায় সংক্ষেপে এভাবে বলা যায়, any absolute truth has to come from the Absolute Being or Authority। শুধুমাত্র পরমসত্তা থেকে আসা সত্যই অখণ্ড ও সামগ্রিক পরম সত্য।

এই কথাটুকুর পরে এবার আসেন যুক্তি নিয়ে কিছু কথা আবারো আমরা স্মরণ করি।

কিছু যুক্তি হলো মৌলিক। কিছু যুক্তি হলো ওইসব স্বতঃসিদ্ধ মৌলিক নিয়ম বা যুক্তিগুলোর শাখা-প্রশাখাগত প্রায়োগিক বহিঃপ্রকাশ (এক্সটেনশন অর্থে)। মিশর সম্রাটের দরবারে মুসা নবীর লাঠি সাপ হয়ে যাওয়ার ঘটনা, আমাদের জানা-শোনা প্রায়োগিক তথা শাখা-প্রশাখাগত খণ্ডিত যুক্তি ও নিয়মের বরখেলাপ। কিন্তু যুক্তির মূল উৎস বা মৌলিক কাঠামোর দিক থেকে যদি আমরা দেখি তাহলে আমরা বুঝতে পারি, যে মহান সত্তা মাটি থেকে সাপ বানাতে পারেন, তাঁর হুকুমে লাঠি থেকে সাপ বের হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। আবার সেই সাপ মুসা নবীর হাতের ছোঁয়ায় লাঠিতে পরিণত হওয়াটাই অযৌক্তিক কিছু নয়। লাঠি থেকে সাপ হওয়াটা যদি অযৌক্তিক ও অসম্ভব হয়, তাহলে মাটি থেকে মানুষসহ যে কোনো প্রাণী, ইনক্লুডিং সাপ তৈরি হওয়াটাও at the very first place অসম্ভব ও অযৌক্তিক ব্যাপার।

আমরা জানি, প্রাণী-জগতের উৎপত্তি হয়েছে মাটি থেকে। [‘ঝামেলা’ তো এখনো শেষ হয়ে যায়নি। মাত্র শুরু হলো বলে!] প্রশ্ন হতে পারে, মাটি কেন মাটি হলো? যদি বলা হয়, কার্বন বা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদানের সংমিশ্রণের কারণে। এই লাইনে কেউ যত উত্তরই দিক না কেন, তাতে করে কিন্তু নিছক নতুন প্রশ্নের উদ্ভবই ঘটে। মূল প্রশ্নের উত্তর দেয়া বা পাওয়া আর হয়ে উঠে না। প্রাকৃতিক কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার জন্য প্রকৃতিকে কারণ হিসাবে উপস্থাপনের মতো। ‘এক’ সংখ্যাটা কোত্থেকে এসেছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে ‘একটা জিনিস থেকে এক-এর ধারণা এসেছে’ এমন স্টুপিড কথা বলার মতো। মোট কথা হলো, begging the question নামক fallacy বা চিন্তা-বিভ্রাট হতে মুক্ত থেকে existential questionগুলোর উত্তর পেতে হলে আমাদেরকে বস্তুগত কার্যকারণ শৃংখলের বাইরে গিয়ে, সোজা কথায় জগতের অতিবর্তী কোনো এক মহান পরমসত্তার উপস্থিতিকে মেনে নিতে হবে।

বুদ্ধিমান পাঠক নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, আপনি যদি সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান-প্রসূত মৌলিক প্রশ্নগুলো ক্রমাগতই উত্থাপন করতে থাকেন তাহলে শেষ পর্যন্ত আপনি ঈশ্বরের ধারণা বা অস্তিত্বে উপনীত হতে বাধ্য হবেন। ফিলোসফিক্যাল গডের অনিবার্য ধারণা হতে কেউ পার্সোনাল গডে বিশ্বাসী হয়ে উঠবে কিনা, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জ্ঞানগত সক্ষমতা ও নৈতিক সৎবুদ্ধির ব্যাপার। মুক্ত জ্ঞানচর্চা তথা আপনার যুক্তি, বুদ্ধি ও বোধ আপনাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাবে, যে জায়গায় যাওয়ার পরে আপনি ‘কেন’ প্রশ্নটি আর তুলতে পারবেন না। ঈশ্বরের ধারণায় উপনীত হওয়ার পরও যদি আপনি কেন কেন করতে থাকেন, তাহলে আপনি counter-intuitive অর্থে এক স্ববিরোধী হাস্যকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন।

এর একটা নমুনা হল খানিকটা এরকম:

ইনফিনিটি প্লাস ওয়ান = ইনফিনিটি, কিংবা

ইনফিনিটি মাইনাস ওয়ান = ইনফিনিটি, কিংবা

ইনফিনিটি প্লাস/মাইনাস = ইনফিনিটি, অথবা

ইনফিনিটি ইনটু ইনফিনিটি = ইনফিনিটি

একজন বিশ্বাসী হিসেবে আমি বলতে পারি, God is the explanation of the world, and we know that an explanation need no further explanation if it explains with conclusive reason।

আলোচনার এ পর্যায়ে এসে বুঝতেই পারছেন, “ঈশ্বর এমন কোনো পাথর তৈরি করতে পারেন কিনা যা তিনি উত্তোলন করতে সক্ষম নন?”– এই প্রশ্নটি মানুষের চেনাজানা ব্যবহার্য ও পরিচিত যুক্তি-বুদ্ধি এবং বোধের (understanding অর্থে) সাথে সাংঘর্ষিক। কিছু ব্যাকরণগত নিয়মের অপব্যবহার করে এই ছদ্ম-প্রশ্নটি তৈরি করা হয়েছে। অর্থবহ হওয়ার মৌলিক ব্যাকরণগত নিয়মের দিক থেকে এটি ব্যাকরণগতভাবেই ভুল প্রশ্ন। যদিও এখানে ব্যাকরণের কিছু সাদামাটা নিয়মকে বাহ্যিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। এটি একটি অবান্তর ও স্ববিরোধী প্রশ্ন। গড হাইপোথিসিস বলতে যা বুঝায় সেভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে যদি আমরা বিবেচনাযোগ্য একটি বিষয় হিসেবে মেনে নেই তাহলে আমরা আমাদের চেনাজানা ও পরিচিত যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যে থেকে এ ধরনের প্রশ্ন আদৌ উত্থাপন করতে পারি না। এর পরও কেউ যদি এ ধরনের ভুল প্রশ্নকে ভ্যালিড মনে করেন তাহলে বলতে হবে, তিনি আগেভাগে উত্তর ঠিক করে দেয়া প্রশ্ন উত্থাপন করছেন। যুক্তিবিদ্যায় যাকে লোডেড কোশ্চেন ফ্যালাসি বলা হয়।

যেমন, কাউকে যদি আমি জিজ্ঞেস করি, “সত্যি করে বল তো, কেন তুমি চুরি করেছ?” অথচ, আমি জানিই না যে সে-ই চুরি করেছে। “কেন তুমি চুরি করছ, বলো”– এই প্রশ্নের যে ‘সদুত্তর’ই(?) সে দিক না কেন, আল্টিমেইটলি সেটা হবে চুরির স্বীকারোক্তি। তাই, “কেন তুমি চুরি করেছ বলো” এটি ব্যাকরণগতভাবে আপাতদৃষ্টিতে একটি সঠিক প্রশ্ন হলেও আসলে তা ভুল প্রশ্ন। নিছক ক্যাটাগরি মিসটেইক। লোডেড কোশ্চেন।

বুঝতেই পারছেন, তথাকথিত omnipotent paradox হলো আসলে এমনই ধরনের কুযুক্তি। ভুল যুক্তি। বা, রং কোশ্চেন।

আমরা জানি, যাচাইয়ের জন্য লাগে দুইটা পক্ষ: (১) যাচাইকারী বা justifier ও (২) যাচাইকৃত বা justified। প্রশ্ন হতে পারে, এই যে যাচাইকারী তথা স্ট্যান্ডার্ড তথা মানদণ্ড বলতে আমরা যা কিছুকে বুঝাই সেটারইবা যাচাইকরণ বা জাস্টিফিকেশন কোত্থেকে বা কীভাবে হলো? সোজা কথায়, মাপকাঠির মাপ কী? স্কেলের স্কেল খুঁজতে গেলে কদ্দুর গিয়েই আমাদেরকে থেমে যেতে হবে।

সমকালীন জ্ঞানতত্ত্বে জ্ঞানতাত্ত্বিক যাচাইকরণ সংক্রান্ত অন্যতম তত্ত্ব হলো ফাউন্ডেশনালিজম বা ভিত্তিবাদ। এর মূল কথা হলো, আমাদের already as it is ফর্মে এমন কিছু মৌলিক বিশ্বাস আছে যেগুলোর ভিত্তিতে আমরা সব কিছুকে যাচাই করি। কিন্তু সেই মৌলিক বিশ্বাসগুলো স্বয়ং যাচাইয়ের ঊর্ধ্বে। কিছু বিষয়কে এভাবে যাচাইয়ের ঊর্ধ্বে হিসেবে গ্রহণ না করলে আমাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটাই ভেঙে পড়ে। এটি হোক আস্তিকতার লাইনে বিশ্বাস ও জ্ঞান। কিংবা নাস্তিকতার লাইনে বিশ্বাস বা জ্ঞান।

নাস্তিকদের কাছে প্রকৃতি তথা প্রাকৃতিক আইন হলো তেমনি যাচাইয়ের ঊর্ধ্বে একটা কিছু। আর আস্তিকদের কাছে প্রকৃতির নিয়ম বা স্রষ্টা হিসেবে ঈশ্বরই হচ্ছেন আমাদের সকল যুক্তি, বুদ্ধি ও বোধ তথা যাচাইয়ের চূড়ান্ত বা পরম মানদণ্ড। এ কথাগুলোকে আপনারা ফিলোসফির দৃষ্টিতে দেখেন কিংবা ইসলামের আলোকে দেখেন সেটা আপনাদের ব্যাপার। আমার কথাগুলো আমি কিছুটা ভেঙে বলার চেষ্টা করেছি মাত্র। এ বিষয়ে আমার বেশ কিছু লেখা আছে। সেগুলোতে আমি মূলত এই কথাগুলোই বলার চেষ্টা করেছি।

আজকের এই আলোচনা আপাতত শেষ করছি আমার বড় আপা প্রফেসর ড. Fatima Khanam-এর একটি কথা দিয়ে। কথা প্রসঙ্গে একদিন উনি বললেন, যে আল্লাহ তায়ালা মায়ের পেট থেকে বাচ্চা হওয়ার নিয়ম বানাতে পারলেন সে আল্লাহ চাইলে তো মানুষের বাচ্চাগুলো মায়ের পেটে না হয়ে মাঠের ফসলের মতো বা গাছের ফলের মতোও ফলাতে পারতেন। মায়ের পেট থেকে বাচ্চা হয়। এটি দেখতে আমরা অভ্যস্ত। সেজন্য এটাকে আমরা যুক্তিসঙ্গত মনে করি। ফসলের মাঠ থেকে বা গাছ থেকে বাচ্চা পয়দা হওয়াটা আমরা কখনো দেখি না। সেজন্য সেটাকে অসম্ভব মনে করি। আদতে কিন্তু নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে, মানে থার্ড পয়েন্ট অব ভিউ থেকে, দুটোর অবস্থা একই।

এজন্যই দেখবেন, কার্যকারণের আলোচনায় সংশয়বাদী তথা নাস্তিক হিউমের দৃষ্টিকোণ তদীয় সাত শত বছর আগের ইসলামী চিন্তাবিদ মোহাম্মদ আল গাযালির সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। ফিলোসফি ডিপার্টমেন্টগুলোর পরীক্ষাতে এখনো প্রশ্ন আসে, “কার্যকারণ সম্পর্কের অনিবার্যতার বিরুদ্ধে ইমাম গাজ্জালীর সাথে ডেভিড হিউমের তুলনা করো।” বুঝেন এবার, আমাদের জ্ঞান ও যুক্তির সীমাবদ্ধতা ও ক্ষমতা কতটুকু! যুক্তি আর অযুক্তি, কিংবা লৌকিকতা ও অলৌকিকতার পার্থক্য।

ফেসবুক থেকে নির্বাচিত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Shahab Uddin Bablu: হতাশা থেকে নাস্তিকতাবাদ চর্চা শুরু হয় দেখা যায়। বন্ধু-বান্ধব যে ক’জনকে এই মতবাদ চর্চা করতে দেখেছি, সবাই ব্যক্তিগত জীবনে হতাশ। তারা তাদের চারপাশ প্রচুর ফাউল মানুষ, জিনিসে ভরে রাখে। পরবর্তীতে কেউ তাদের ক্লিয়ার করে কিছু বুঝালেও তাদের হৃদয় পর্যন্ত সেগুলো পৌছায় না।

ধন্যবাদ, এই লেখাটার জন্য।

Iftekharul Islam Ifat: “পরম কোনো সত্তা যদি থেকে থাকেন, তিনি যুক্তির ঊর্ধ্বে হবেন না। কেননা, যুক্তি দিয়েই তিনি জগত পরিচালনা করেন। যদিও সেখানে আছে যুক্তির ক্রমসোপান।”

এই ঊদ্ধৃতির শেষ লাইনটা আরেকটু ভেঙে বললে ভালো হতো স্যার।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: যুক্তি সত্য-মিথ্যা হয় না। বরঞ্চ যুক্তি হয় দুর্বল কিংবা শক্তিশালী, ভালো কিংবা খারাপ, গ্রহণযোগ্য অথবা অগ্রহণযোগ্য। এটি হলো যুক্তি ক্রমসোপানমূলক হওয়ার মূল কথা।

আর মহান স্রষ্টা সম্পর্কে কথা হলো, তিনি যুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নন। পক্ষান্তরে, তিনি যুক্তি বিরোধীও নন। বরং এ ধরনের আইদার-অর বাইনারির বাইন্ডিং থেকে তিনি মুক্ত। সেজন্যই তিনি খোদা বা ঈশ্বর। সবকিছু থেকে তিনি আল্টিমেইটলি ভিন্ন, ব্যতিক্রমী, এক অনন্য সত্তা।

আমাদের সব যুক্তি-প্রক্রিয়ার বৈধতা ও কার্যকারিতার উৎস হলো তাঁর মহান সত্তা। তিনি হলেন বা তাঁর সত্তা হলো স্বয়ং সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বশেষ ও চূড়ান্ত যুক্তি। তাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। কিন্তু সেই অস্তিত্বের স্বরূপ আমাদের অজ্ঞেয়। কারণ, আমরা হলাম বিশেষ আর তিনি হলেন সার্বিক।

Iftekharul Islam Ifat: আচ্ছা। মানে কোনো যুক্তিকে কাউন্টার করতে হলে তার চেয়ে ভালো যুক্তি প্রেজেন্ট করতে হবে।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: ঠিক তাই-ই।

Mahmudur Rahman: We are greater than all gods. Because God is simply an idea from old human philosophy.

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: yes, God is an idea. not a substance or material thing. but objectively, that idea is greater and deeper than any other human idea.

Mahmudur Rahman: What do you know, more than human idea? Is your God something or nothing?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: something. but not like anything that we can or could experience. That’s why, it’s an idea. Believers think that this idea is correct. disbelievers think that this idea is false. at the end of the day, we have only arguments for our position.

Mahmudur Rahman: What is something? Like air, oxygen or what? No God is honest and verified fact? Which God you are talking? And a belief fantasy is not truth reality.

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: I don’t know, whether you are clear about the philosophical distinction between physical entity versus metaphysical entity. anyway, its metaphysical entity.

Mahmudur Rahman: Atheism is connected with the reality, what science, logic and reasoning support. Here is nothing to believe. Here is only accept.

I am an atheist, because I don’t support Lies and Liars.

Secondly, we are all atheist, because only a God can defeat atheism and any God at all.

What people believe BLINDLY, it is simply one-way traffic & self-fulfilling prophecy and not countable

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: my belief is my outcome of reason and logic. that may be not sufficient or acceptable to you. but you have to know that “knowledge is justified true belief”. without belief there could be no knowledge. I am a teacher of epistemology. if you think that, I am a believer, that’s why, I am telling about belief. So, you please take any document of theory of knowledge and find the use and necessity of the very word belief, then you will get something new, I hope. be cool and keep searching, please.

Mahmudur Rahman: Truth = A true thing and a verified fact.

Religions honest logic = unintelligent Blindness.

Last question: যদি কোনো God/আল্লাহ সত্যিই বিদ্যমান থাকে, তখন God/আল্লাহ কি নিজে জানে, কেন ও কীভাবে তিনি বিদ্যমান হয়েছেন?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: I have said, I am philosophy teacher, teaching for 26 years in a public university. theory of knowledge is my expertise. So, try to follow the texts. in epistemology, there is no theistic epistemology or atheistic epistemology. religious epistemology is a branch of theory of knowledge. but I do not work on that. thanks.

academically, I am supposed to know truth and knowledge, better than any non-epistemologist. never mind it.

Mahmudur Rahman: Do you believe Hindu God or any other religions God or God’s? If not why?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: don’t shift points. we were talking about the role of belief in making knowledge, whatever the knowledge. AND I DONOT LIKE TO RESPONSE CATEGORICALLY WRONG QUESTIONS

Mahmudur Rahman: I believe something without evidence. Is it not self-fulfilling prophecy and one way traffic?

লেখাটির ফেসবুক লিংক

আপনার মন্তব্য/প্রশ্ন লিখুন

ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।

*